প্রবাহ আনন্দ সংখ্যা


Mar 2025


‘প্রবাহ’র আনন্দ সংখ্যায় পাঠকদের জন্য রয়েছে আনন্দের সম্ভার।
দেখে নিই কী কী রয়েছে এবার ‘প্রবাহ’র ঝুলিতে।
এবার ‘খুশির প্রবাহ’ একটা নয়, দুটো নয়, পুরো তিন-তিনখানা – ট্রেনের কামরার আজব ঘটনায় সাজানো “দুর্গা দুর্গা দুর্গিয়ানা”, মাতৃশাসনে-নাভিশ্বাস-ওঠা এক ছেলের মনকাড়া গল্প “তোকে পেটে ধরেছি” আর শেষপাতে কত্তাগিন্নির টকঝালমিষ্টি প্রেম নিয়ে “রসে বশে”। ও, শেষেরটা আবার ধারাবাহিক, সুতরাং সে আনন্দ প্রবাহিত হবে পরের সংখ্যাতেও।
ধারাবাহিকের কথা যখন উঠলই, তখন মূল ধারাবাহিক অর্থাৎ ‘প্রবহমান উপন্যাস’-এর আলোচনায় আসা যাক। প্রবাহ-র প্রথম প্রবহমান উপন্যাস “কাটাঘুড়ি আট” শেষ হয়েছে প্রথম সাতটি সংখ্যায়, অর্থাৎ ‘প্রবাহ সৃজন’ থেকে শুরু হয়ে ‘মনীষী’-তে। আর আনন্দ সংখ্যা থেকে শুরু হলো নতুন উপন্যাস “গগনবিহারী”। বেশি কিছু বলব না, তবে আনন্দ সংখ্যায় মজার উপন্যাস থাকবে না তা হয় নাকি? পড়েই ফেলুন না আকাশপথের যাত্রী হারুবাবুর কীর্তিকলাপ।
আপনারা তো জানেনই, প্রবাহ-তে প্রবহমান তো শুধু উপন্যাস নয়, বেশ কিছু গল্পও। প্রথা মেনে দুটি নতুন ‘প্রবহমান গল্প’ শুরু হলো এই সংখ্যায় – “হেমন্তের ছোঁয়া” আর “স্নেহের টান”। আগের দুটি প্রবহমান গল্প – “যাত্রাপথ” আর “অবেলা” শেষ হয়েছে এই সংখ্যায়। আপনারা বলবেন সবগুলোর বিষয়বস্তু তো আনন্দ নয় হে? তা ঠিক, কিন্তু প্রবহমান যেহেতু, জীবনের ওঠাপড়ার মতোই পুরোটাই আনন্দের সমারোহ না হলেও এই সময়কালের অন্যান্য বিষয় যেমন ভূত, রহস্য, নারীস্বাধীনতা, স্মৃতিমেদুরতা ইত্যাদি সবই বহালতবিয়তে বিদ্যমান।

গল্প নিয়ে কথা হচ্ছে যখন, বলে নেওয়া যাক তিনটি ‘কাহিনীপ্রবাহ’-র কথাও – “আমগাছটা” করুণ কিন্তু দাদু-নাতির নিখাদ ভালবাসায় স্বমহিমায় উজ্জ্বল, “উপহার” বাসন্তী রূপকথার রঙে রঙিন আর “হায় ভালোবাসা” আজকালকার প্রেমের বাস্তব চিত্র।
আনন্দ নিয়ে পত্রিকা আর স্মৃতিচারণা, ছেলেবেলার গপ্পো এসব থাকবে না? সুতরাং এবার ‘আটপৌরে’র ডবল ডোজ – পুরোনোদিনের বিজয়া উদযাপন নিয়ে “পৌঁছে চিঠি দিও” আর “ছেলেবেলার খেলাধুলো” নিয়ে মিষ্টি একটা লেখা।
স্মৃতিচারণার প্রসঙ্গ উঠলেই আত্মজীবনীর কথা মনে হয় আর শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’র চেয়ে ভালো আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস আর কিইবা হতে পারে। তাই ‘সেই বইটা’য় এবার রইল “স্মৃতিতর্পণে শ্রীকান্ত” – লেখিকার সাথে শ্রীকান্তর বন্ধুত্ব! ‘সিনেম্যাটিক’-এ আছে “আনন্দ, আমার চোখে” – হৃষীকেশ মুখার্জীর কালজয়ী ছবি ‘আনন্দ’ নিয়ে একটি সুন্দর পর্যালোচনা। এক মৃত্যুপথযাত্রী কিভাবে জীবনের পাঠ পড়িয়ে যায় লেখিকাকে।
কবিতা? আছে বইকি। নয় নয় করে ন’খানা! বিষয়বস্তুর কথা তো আগেই বলেছি। এখানেও ব্যতিক্রম নেই।
পাঠকদের অনুরোধে গতসংখ্যা থেকে চালু হয়েছে নতুন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ বিভাগ। তবে গতবারের ‘বড়মানুষের ছেলেমানুষী’র বদলে এবার থাকল টাটকা তাজা ‘বিজ্ঞানের সাতকাহন’, প্রথমবারেই “আলোকদিশারী” সত্যেন বসুর গল্প। এছাড়া? তা ছোট ছোট চেনাজানা সেকশনগুলো তো রইলই যেমন ‘ছোটদের আঁকা’, ‘জানেন কি’ ইত্যাদি।
শেষ করি আমাদের বিশেষ বিভাগ ‘কথা হোক’-এর কথা দিয়ে। এই সংখ্যায় আর আলাদা করে জটিল মনস্তত্বের প্রবন্ধ থাকল না, থাকল না নতুন প্রশ্নও। শুধু পাঠকদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে গত সংখ্যার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। আসলে জানেন তো, মন যখন আনন্দে ভরপুর, তখন মানসিক, পারিবারিক কোনো সমস্যাকেই সমস্যা বলে মনে হয় না আর। অন্তত আমাদের তাই বিশ্বাস।


About Us

A new age publishing house that promises to inspire and support creativity in budding writers.